Search This Blog

Saturday, June 6, 2020

অ্যাডভেঞ্চার বর্ষায়

অ্যাডভেঞ্চার বর্ষায় 
মনীন্দ্র গুপ্ত 

কবি পরিচিতি ঃ

২০১১ সালে কবি মনীন্দ্র গুপ্ত সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরষ্কারে সম্মানিত হন। তাঁর লেখা দুটি গ্রন্থ হল অক্ষয় মালবেরি ও চাঁদের ওপিঠে । তিনি পরমা নামে একটি বই সম্পাদনা করেছেন।

অ্যাডভেঞ্চার একটি ইংরাজি শব্দ যার বাংলা প্রতিশব্দ হল দুঃসাহসিক অভিযান । 
 এই গল্পটি পড়লে আমরা লেখক মনীন্দ্র গুপ্তর ছেলেবেলার একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা জানতে পারি। 

গল্পটির প্রথম পাতাটা পড়লে আমরা জানতে পারি যে 

                    লেখকের ছোটো পিসিমা ও সেজো পিসিমার মোট চার ছেলে মেয়ে আছে। তারা প্রত্যেকেই প্রায় সম বয়েসের । তাদের মধ্যে সেজো পিসিমার মেয়ে ছিল পাক্কা টমবয়। অর্থাৎ, খুবই ডানপিটে প্রকৃতির। তার নাকে নোলক ছিল, আর মাথাটা ছিল তার ন্যাড়া ।

এখানে বলা হয়েছে  লেখক তাঁর ছোটবেলায় কোন এক সময়ে  বাড়িতে এসেছিলেন গরমের ছুটি কাটাতে। সেই সময় ঘটনা ক্রমে তাঁর দুই পিসির চার ছেলে মেয়ে রাও তাঁদের বাড়িতে এসেছিলো । তাদের মধ্যে ঠিক হয় যে তারা পাঁচ  ভাই বোন মিলে প্রথমে ছোটো পিসির বাড়ি যাবে, তারপর সেখানে কিছু দিন থেকে তারা চলে যাবে সেজো পিসির বাড়ি।তাই তারা চার ভাই ও এক বোন মিলে সকালে ফ্যান ভাত খেয়ে বেরিয়ে পড়ল ছোটো পিসির বাড়ীর উদ্দেশ্যে । যথারীতি খুশির মেজাজে , আনন্দ করতে করতে তারা এগিয়ে চলল ।

প্রথম পাতা থেকে কিছু শব্দার্থ

গ্রীষ্ম = গরম
হাজির = উপস্থিত
টমবয় = টমবয় কথার অর্থ ডানপিটে। যেসব মেয়েরা সাধারনত হই হই করে বিপদ জনক খেলা                         খেলতে ভালোবাসে, তাদের এই নামে ডাকা হয়। 
গাছ কোমর = কোমরে কাপড় শক্ত করে পেঁচিয়ে বা জড়িয়ে নেওয়া 
দঙ্গলে = দল বেঁধে 
নোলক = একটি অলঙ্কার যেটি মেয়েরে নাকে পড়ে 
যথেষ্ট = পর্যাপ্ত 
ফেনসা ভাত = ফ্যান ভাত বা, ফ্যান সমেত ভাত
আনন্দ = উল্লাস বা, ফুর্তি 
লঘু = পাতলা, এখানে লঘু বলতে "রোগা" বোঝানো হয়েছে   


বিপরীত শব্দ

ছেলে = মেয়ে
দূরে = কাছে
ছোটো = বড়
আগে = পরে 
লঘু = ঘন


লিঙ্গ পরিবর্তন

সেজো পিসিমা = সেজো পিসেমসাই
ছোটো পিসিমা = ছোটো পিসেমসাই
ন্যাড়া = নেড়ি
ভাই = বোন 
প্রতিবেশী = প্রতিবেশিনী 


প্রথম স্তবক থেকে কিছু প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করা হল 

**১।  মনীন্দ্র গুপ্ত কোন পত্রিকা সম্পাদনা করতেন ?

**২। মনীন্দ্র গুপ্তের লেখা দুটি বই এর নাম লেখ ?

**৩। এই গল্পে কথক কি সূত্রে বাড়ি এসেছিলো ?

**৪।  খবর পেয়ে কারা এলো ?

**৫। টমবয় শব্দের অর্থ কি ?

**৬। এই গল্পে কাকে টমবয় বলা হয়েছে ?  এবং  কেন ?

**৭।  এই গল্পে বর্ণিত টমবয়ের পরিচয় দাও ?

**৮। কার নাকে নোলক ছিল ?

**৯। ভাই বোনেরা মিলে কি ঠিক করল ?

**১০।  ফেনসা ভাত কি ?


উত্তর



**১। মনীন্দ্র গুপ্ত পরমা নামক পত্রিকা সম্পাদনা করতেন ।

**২। মনীন্দ্র গুপ্তের লেখা দুটি বই হল অক্ষয় মালবেরি ও চাঁদের ওপিঠে ।

**৩। এই গল্পে কথক গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে বাড়ি এসেছিলো ।

**৪। খবর পেয়ে দুই পিসির মোট চার ছেলেমেয়ে এলো ।

**৫। টমবয় শব্দের অর্থ হল ডানপিটে। যে সমস্ত মেয়েরা সাধারনত হই হই করে বিপদ জনক খেলা
          খেলতে ভালোবাসে তাদের এই নামে ডাকা হয়।

**৬। এই গল্পে সেজো পিসির মেয়েকে টমবয় বলা হয়েছে । তাকে টমবয় বলা হয়েছে কারন, সে খুব
           ডানপিটে, গাছ কোমর বেঁধে সবার আগে আগে গাছে উঠতে পারে, তাছাড়া সে দঙ্গলে লড়তেও
           পারে। 

**৭। এই গল্পে বর্ণিত টমবয়ের নাকে নোলক ছিল এবং তার মাথাটা ছিল ন্যাড়া। সে গাছ কোমর বেঁধে
          সবার আগে আগে গাছে উঠে পরতে পারত ও দঙ্গলে লড়তেও পারত ।

**৮। সেজো পিসিমার মেয়ের নাকে নোলক ছিল।

**৯। ভাই বোনেরা মিলে ঠিক করল যে, তারা প্রথমে ছোটো পিসির বাড়ি যাবে, তারপর সেখানে 
          কিছুদিন থেকে তারা সেখান থেকে সেজো পিসিমার বাড়ি যাবে ।

**১০। ফেনসা ভাত কথার অর্থ হল ফ্যান সমেত ভাত 


গল্পটির দ্বিতীয় পাতাটি পড়ে আমরা জানতে পারবো যে,

              পাঁচ ভাই বোন মিলে গ্রামের পথ ধরে পাট ক্ষেতের নীল হাওয়া উপভোগ করতে করতে আনন্দের সঙ্গে এগিয়ে চলল ছোটো পিসির বাড়ির উদ্দেশ্যে । ছোটো পিসির বাড়ি যাবার পথে পড়েছিল অশ্বিনী কুমার দত্তের গ্রাম বাটাজোড় ।  সন্ধার আগেই তারা পৌঁছাল ছোটো পিসিমার বাড়ি।
               বিধবা ছোটো পিসিমার প্রানশক্তি ছিল ভরপুর। সেখানে দু দিন থেকে তিন দিনের দিন তারা বেরিয়ে পড়ল সেজো পিসিমার বাড়ির উদ্দেশ্যে। সেজো পিসিমার বাড়ি চন্দ্রহার গ্রামে। এই বার শুরু হবে আসল অ্যাডভেঞ্চার । 
              কিছুটা রাস্তা যাবার পরেই আকাশে দেখা দিল মেঘ। তারপর শুরু হল বিদ্যুৎ চমকানো । অবশেষে নামল বৃষ্টি । পাঁচ ভাই বোনের কাছে ছাতা ছিল মাত্র একটি, তাও আবার তাপ্পি মারা। বৃষ্টির 
দমকা হাওয়া এসে উল্টে দিল সেই তাপ্পি মারা ছাতাটিকে । এই বৃষ্টি সহজে থামবার নয়। তাই পরিস্থিতি 
বেগতিক দেখে তারা বেপরোয়া বৃষ্টির মধ্যেই হাঁটতে লাগল । অবশেষে সন্ধ্যার মুখে তারা পৌঁছল সেজো পিসির বাড়ি। সেজো পিসির বাড়ির সামনে এসে তারা দেখেছিল বেশ কিছু কই মাছ সার বেঁধে মাঠ পার হচ্ছিল। সাথে সাথেই তারা দেড় দুই কুড়ি কই মাছ তুলে নিয়েছিল তাদের উল্টানো ছাতার মধ্যে। 
             সেই যে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল সেটা আর থামার নাম করছে না। এদিকে সেজো পিসির বাড়িতে তিনদিন কাটানো হয়ে গেছে। কিন্তু বৃষ্টি অঝোরে ঝরেই যাচ্ছে। বৃষ্টি না থামায় তারা কেউ নিজেদের বাড়ি যেতে পারছে না। সেজো পিসিও তাদের বৃষ্টির মধ্যে ছাড়বে না। কাগজে একশো টা "পুর" লিখে 
পোড়ানো হল। কিন্তু সেই তুক কোন কাজ করল না। অবশেষে দুপুর বেলায় বৃষ্টি একটু থামতেই কথক ছোটো ভাই কে বলে লুকিয়ে লুকিয়ে বেরিয়ে পড়ল। 


দ্বিতীয় পাতা থেকে কিছু শব্দার্থ


পথ = রাস্তা 
ক্ষেত = জমি
কড়া = তীব্র 
পড়ন্ত বেলায় = বেলা শেষের দিকে 
বিধবা = যার স্বামী মারা গেছে তাকে বিধবা বলে 
ভিটে = বাড়ি 
লন্ঠন = হ্যারিকেন 
এঁটে উঠতে পারে না = পাত্তা পায় না 
অপরাহ্ণে = বিকেল বেলায় 
ঘোঁট = গোলমাল 
ঝেঁপে = জোরে 
বেপরোয়া = লাগাম হীন 
স্রোত = ঢেউ 
ছিপ ছিপে = সরু বা পাতলা 
সার বেঁধে = দল বেঁধে 
দেশান্তরে = অন্য দেশে 
কালক্ষেপ না করে = কাল বিলম্ব না করে / দেরি না করে 
নাগাড়ে = অবিরাম/ একটানা
তুক = উপায় / বশ করার যাদু মন্ত্র 
অশেষ = যার শেষ নেই 
ব্যাকুল = অস্থির


বিপরীত শব্দ

বিধবা = সধবা 
প্রচুর = অল্প / স্বল্প 
ভরা = খালি 


দ্বিতীয় পাতা থেকে কিছু প্রশ্ন উত্তর


**১। অশ্বিনী কুমার দত্ত কে ছিলেন ?

**২। অশ্বিনী কুমার দত্তের বাড়ি কোন গ্রামে ছিল?

**৩।  কথক এবং তার ভাই বোনেরা সন্ধার আগেই কার বাড়ি গিয়েছিল ?

**৪।  রাতে লন্ঠন জ্বালিয়ে কে পাহারা দেয় ?

**৫।  সেজো পিসিমার বাড়ি কোন গ্রামে ?

**৬।  পাঁচ ভাই বোনের ছাতার সংখ্যা কটি ?

**৭।  পাঁচ ভাই বোন মিলে কতগুলি কই মাছ উল্টানো ছাতার মধ্যে ভরেছিল ?

**৮।  পিসতুতো ভাই কি তুক বলেছিল ? সেই তুকে কি কোন কাজ হয়েছিল ?



উত্তর



**১।  পেশায় শিক্ষক অশ্বিনী কুমার দত্ত ছিলেন একজন বহু ভাষা বিদ, সুপণ্ডিত ।

**২।  অশ্বিনী কুমার দত্তের বাড়ি বর্তমান বাংলা দেশের বরিশাল জেলার বাটাজোড় গ্রামে।

**৩।  কথক ও তার ভাই বোনেরা সন্ধ্যার আগেই ছোটো পিসিমার বাড়ি গিয়ে পৌঁছেছিলো ।

**৪।  রাতে লন্ঠন জ্বালিয়ে ছোটো পিসিমা পাহারা দেয় ।

**৫। সেজো পিসিমার বাড়ি চন্দ্রহার গ্রামে ।

**৬। পাঁচ ভাই বোনের ছাতা ছিল মাত্র একটি ।

**৭। পাঁচ ভাই বোন মিলে দেড় দুই কুড়ি কই মাছ উল্টানো ছাতার মধ্যে ভরেছিল ।

**৮।  পিসতুতো ভাই বলেছিল যে একশো টা "পুরের" নাম কাগজে লিখে আগুনে পোড়ালে বৃষ্টি 
           থেমে যায়। 
           না, এই তুকে কোন কাজ হয়নি। 



গল্পটির তৃতীয় পাতাটি পড়লে আমরা জানতে পারবো যে


          বাড়ি ফেরার পথে শুরুতে বৃষ্টি না পড়লেও রাস্তা ঘাট ছিল একেবারে জন মানুষ হীন।মাইল 
দুয়েক যেতেই বৃষ্টি নামল । এবার পথে তার কোন সঙ্গী নেই। বৃষ্টি কে সঙ্গী করে খোলা মাঠের মধ্য 
দিয়ে একা হেঁটে চললেন তিনি বাড়ির দিকে। মুষল ধারে বৃষ্টির সাথে শুরু হল প্রচণ্ড বেগে ধেয়ে 
আসা ঝোড়ো হাওয়া। বৃষ্টির ফোঁটা গুলো পেরেকের মতো বিঁধতে লাগল কথকের পিঠে। প্রচণ্ড বৃষ্টি 
ও দমকা হাওয়ার ফলে চারিদিক আবঝা হয়ে গেছে । এমতাবস্থায় ঘন ঘন বাজ পড়ায় পরিস্থিতি 
আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। যদিও ঝড়ের ধাক্কা কথকের গতিবেগ কে তিনগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। 
অবিশ্রান্ত বৃষ্টি আর হাওয়া কথকের শরীরে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছে। 

অবশেষে সমস্ত প্রতিকূলতা কে জয় করে লেখক যখন বাড়ি পৌঁছলেন তখন বৃষ্টি থেমে গেছে। 
বাড়ি পৌঁছেই শুকনো কাপড় দিয়ে গা মাথা মুছে শরীর গরম করার জন্য কথক মোটা কাঁথার ভেতর
ঢুকে পড়েছিল ।



তৃতীয় পাতা থেকে কিছু শব্দার্থ 


অনাবৃত = আবরণহীন, খোলা
নিরাশ্রয় = আশ্রয়হীন
দুর্ধর্ষ = যাকে পরাজিত করা কষ্টকর 
বল = শক্তি 
বেগ = গতি 
খাড়া = সোজা 
বিনা আয়েসে = অনায়েসে , পরিশ্রম না করে 
দ্রুত= তাড়াতাড়ি 
পুরু = মোটা
সেঁধিয়ে = প্রবেশ করে 

বিপরীত শব্দ 

চেনা = চেনা 
অনাবৃত = আবৃত 
নিরাশ্রয় = আশ্রয় 
সামনে = পিছনে 
দ্রুত = ধীরে 
শুকনো = ভেজা 
পুরু = পাতলা


তৃতীয় পাতা থেকে কিছু প্রশ্ন উত্তর


**১।  ঝড়ের ধাক্কার ফলে কথকের কি সুবিধা হল ?

**২।  ঐ ঝড় জলের মধ্যে লেখক কে দেখে কারা অবাক হয়েছিল ?

**৩।  বাড়ি ফিরে কথক কি করেছিল ?


উত্তর


**১।  ঝড়ের ধাক্কার ফলে কথকের গতি তিনগুন বেড়ে গেছিল 

**২।  ঐ ঝড় জলের মধ্যে লেখক কে দেখে বড়োমা ও ছোটোমা অবাক হয়েছিল 

**৩।  বাড়ি ফিরে কথক প্রথমেই শুকনো কাপড় দিয়ে গা মাথা মুছেছিল, তারপর শরীর গরম করার
           জন্য মোটা কাঁথার মধ্যে ঢুকে পড়েছিল ।


শূন্যস্থান পূরণ করো 


**১।  মাইল দুয়েক যেতে না যেতেই বৃষ্টি এলো

**২।  এখনো অন্তত দশ ক্রোশ অচেনা পথ পাড়ি দিতে হবে 

**৩।  অনাবৃত পৃথিবীকে নিরাশ্রয় পেয়ে তার বল দুর্ধর্ষ 

**৪।  এমন সময় দেখি সামনে চাঁদসির লোহার পুল 

**৫।  বাড়িতে যখন পৌছালাম তখন মেঘলোকে রক্তহীন শেষ সূর্যাস্ত লেখা   



পুরো গল্পটি আরো ভালো করে বুঝতে হলে এখানে স্পর্শ/ক্লিক করুন, আর দেখে নিন সম্পূর্ণ ক্লাসের ভিডিও টি
























 

       


















  

No comments:

Post a Comment